৩ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

৩ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক,

চলতি বছর বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি সরকার। চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে চাল সরবরাহ করেননি মিলমালিকরা। উল্টো করোনা দুর্যোগের মধ্যেও বাজারে চালের দাম আরো বাড়িয়ে দেন তারা। যার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরু, মাঝারি ও মোটা সব চালের দাম বাড়তির দিকে। সামনে আমনের ফলনে কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে চালের বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে চলতি অর্থবছর দুই-তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জিটুজি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এসব চাল আমদানি করা হবে। অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় চাল আমদানির এ সিদ্ধান্ত হয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে ওই সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিতরণ চাহিদা মিটিয়ে চলতি অর্থবছর শেষে সমাপনী সরকারি মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলা, বর্তমানে মোটা চালের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারদর এবং সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলতি অর্থবছর দুই-তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, চাল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই আমদানি করা হবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে সরকারি পর্যায়ে সেভাবে চাল আমদানি হয়নি। এখন কোন প্রেক্ষাপটে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত ছিল, চার-পাঁচবার বন্যা হয়েছে। তাই আমন উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হওয়ার একটা শঙ্কা রয়েছে। তবে অতি বন্যায় যে পরিমাণ আমন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল তা হবে না। তার পরও যদি আমন উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হয়, তাহলে আমরা হয়তো চাল আমদানি করব। তবে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হবে না।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাকে আমদানি পরিস্থিতির বিষয়ে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখ ১৬ হাজার টন গম সরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে। তবে এ সময়ে সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। একই সময়ে বেসরকারিভাবে মাত্র ৬০ টন চাল ও ১৬ লাখ ৯১ হাজার টন গম আমদানি করা হয়েছে।

সরকারিভাবে চাল আমদানির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় চাল আমদানির সিদ্ধান্তটা সঠিক। কারণ বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় চালের বাজারে একটু ঘাটতি দেখা দিলে সেটা বড় প্রভাব ফেলে। সরকারের গুদামে যদি কিছুটা শর্ট দেখা দেয়, তাহলে বাইরেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে চালের সংকট তৈরি করে। ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আবার তখন তড়িঘড়ি করে দেশের বাইরে থেকে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও আমদানি সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়। তাই আমদানি করে হলেও সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ রাখতে হবে।’

একই সঙ্গে সরকারি গুদামে মজুদ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কারণে যদি সরকারি গুদামে খাদ্যপণ্য কমে যায়, তাহলে বেসরকারি খাতে ব্যবসায়ীরাও সিন্ডিকেট করে খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, যা অতীতে তারা করেছে। তাই সময় থাকতেই আমদানি করে হলেও গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তোলা উচিত।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর দেশে খাদ্যশস্যের মোট মজুদের পরিমাণ ১০ লাখ ৩ হাজার মেট্টিক টন। এর মধ্যে চাল ৭ লাখ ২৫ হাজার টন এবং গম ২ লাখ ৭৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে সরকারের গম ও চাল মিলিয়ে খাদ্য মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। তার মানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর খাদ্য মজুদের ঘাটতি প্রায় ছয় লাখ টন। আবার গত এক মাসের ব্যবধানে মজুদ কমেছে প্রায় তিন লাখ টন। তার মানে মজুদ কমছে খুব দ্রুত।

সূত্র: বণিক বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন




themesads

© All rights reserved © 2020 crimefolder.com
কারিগরি সহযোগীতায়: Creative Zone IT