অন্যায্য কথা: সিনেমায় মৌলবি-পুরোহিতরা কেন রেপিস্ট?

অন্যায্য কথা: সিনেমায় মৌলবি-পুরোহিতরা কেন রেপিস্ট?

সিদ্দিক মাহমুদুর রহমান।

একজন আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘Why are religious people always portrayed negatively in movies and novels? উপন্যাস, সিনেমা, থিয়েটারে সাধারণত মৌলবি/পুরোহিত/প্রিস্ট প্রভৃতি চরিত্র ‘ভিলেন’/ ‘বদমাইশ’/নেগেটিভ হিসেবে দেখা যায় কেন? এ বিষয়টি আমার মাথাতেও এসেছে। ষাটের দশকে ভারতের অনেক বাংলা/হিন্দী সিনেমাতে মাতাল/ চোর-ডাকাত/রেপিস্ট হিসেবে ‘মুসলমান’দের দেখানোর প্রবনতা ছিলো। এই রকম দলের ভেতর যে লোকটি নায়িকাকে বাঁচাতে সাহায্য করতো, সে হিন্দু হতো। ব্রিটেন, আমেরিকার ছবিতেও কোন আরব/মুসলিম চরিত্র দেখানো হতো ‘বদমাইশ/ রেপিস্ট হিসেবে।

ধর্মীয় ব্যক্তিদের অবমূল্যায়ন করা আদী যুগ থেকেই চলে আসছে। এই প্রবণতা রুশ বিপ্লবের পর থেকে আরও বেশি হয়েছে। এখানে রাশিয়ার রাসপুটিন চরিত্রটি স্মরণ করা যেতে পারে। রাসপুটিনের চরিত্রটি কতোটুকু আসল, আর কতোখানিক গল্প কে বলতে পারে। স-বই তো বইয়ে আছে।

বর্তমান যুগে ‘বিন লাদেন’ বিরাট ‘ভিলেন’, লিবিয়ার ‘গাদ্দাফি’, বা ইরাকের ‘সাদ্দাম’কে ‘ভিলেন’ হিসেবে দেখানোর প্রধান কারণ তারা মুসলমান। অথচ তাদের চেয়ে আরও ভয়াবহ চরিত্র ইদি আমিন, রবার্ট মুগাবে। মুগাবে তো বহাল তবিয়তে রাজত্ব করে গেছেন অল্প ক’দিন আগে পর্যন্ত আর প্রতি বছর একটা করে বিয়ে করেছেন। তার কিছু হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের সব জায়গায় আমেরিকা সৈন্য পাঠালেও ওখানে সৈন্য পাঠায়নি।

ব্রিটেন ‘তথাকথিত’ গণতন্ত্রের পূজারী কয়েক শ’ বছর ধরে, অথচ তাদের দেশে “রাজতন্ত্র” জেঁকে বসে আছে জগদ্দল পাহাড়ের মতো, গণতন্ত্রের দেশ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, হল্যান্ডেও রাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র জাপানেও। অথচ ওদেরকে বলা হয় “গনতন্ত্রের দেশ”!
আমেরিকা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, ন্যয়ের জন্য সারা বিশ্বে যুদ্ধ করে বেড়াচ্ছে, অথচ সৌদি আরবের রাজতন্ত্রকে কী সুন্দর পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে।

ইদানিং ধর্মকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার জন্য এক দল “মুক্তমনা’ “সমাজতন্ত্রী”, ‘মানব-ধর্মে’র প্রবক্তা, ‘কোনো ধর্ম মানি না’ গোষ্ঠি উঠে পড়ে লেগেছেন, লেগে আছে বহু কাল ধরেই।

আমি কিশোরকালেও দেখেছি কমুনিস্ট হিসেবে শপথ নিতে হলে, একটি অন্ধকার ঘরে একটি পাটাতনের ওপরে দাঁড়িয়ে শপথ বাক্য পাঠ করতে হতো, ঐ পাটাতনের তলায় গীতা, কোরআন আর বাইবেল গ্রন্থ রাখা হতো। যে বা যারা শপথ নিতে আসতো, তাকে/তাদেরকে ঐ ধর্মগ্রন্থের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে শপথ নিতে হতো। অর্থাৎ ‘আমি ধর্ম মানি না’-র শপথও নিতে হতো।’
এই ব্যাপারটা আমার জীবনে ঘটেছিলো বলেই জানি, তাই এটা গল্প-কাহিনী নয়! না, আমি তখন মনে-প্রাণে সমাজতন্ত্রী হতে চাইলেও আমি সে শপথ নেইনি।

সমাজতন্ত্র – কম্যুনিজম – আধুনিকতা – সব কিছুই ধর্মবিরোধী। আমি আধুনিক হতে হলে ধর্ম মানা যাবে না। আমি কবি- সাহিত্যিক- গায়ক- নায়ক- অধ্যাপক- মন্ত্রী- আধুনিক হতে হলে ধর্ম মানা যাবে না। ধর্ম মানতে হলে জোব্বা পরতে হবে হিজাব-নিকাব পরতে হবে, নাচ-গান-অভিনয় করা যাবে না! ধর্মীয় আবহে কবিতা লিখলে তাঁকে আর বড় কবি বলা যাবে না, তাঁকে বড় অনুষ্ঠানে ডাকা যাবে না।

(আমাকে যে আজকাল “আধুনিক”-রা খুব একটা পাত্তা দেয় না, এটার কারণ এবার বুঝতে পারলেন তো?
আমার দাড়ি আছে! আর আমি মাঝে মাঝেই ইসলাম নিয়ে, নামাজ-রোজা নিয়ে, নৈতিকতা নিয়ে কথা বলি।)

লেখক: গবেষক,
ভিজিটিং ফেকাল্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন




themesads

© All rights reserved © 2020 crimefolder.com
কারিগরি সহযোগীতায়: Creative Zone IT