নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও শাস্তি দাবি আসকের

নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও শাস্তি দাবি আসকের

নারায়ণগঞ্জের বন্দর বাজারে ইলিয়াছ শেখ নামে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির মহাসচিব মো. নূর খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও শাস্তি দাবি করা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ইলিয়াছ শেখ (৪৫) দৈনিক বিজয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের আদমপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আদমপুর জিওধারা চৌরাস্তা বাজার দিয়ে যখন ইলিয়াছ শেখ বাড়ি ফিরছিলেন, তখন সন্ত্রাসী তুষার ও তুর্যসহ তাদের বেশ কয়েকজন সহযোগী সেখানে অবস্থান করছিলেন। ইলিয়াছকে দেখেই তুষার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। সেদিকে কান না দিয়ে ইলিয়াছ বাসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তুষার পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে ইলিয়াছকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তুষারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিছুদিন আগেও তুষার মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তার গ্রেফতারের ব্যাপারে ইলিয়াছ পুলিশকে তথ্য প্রদান করেছে বলে সন্দেহ করে তুষার ও তার পরিবার। তুষার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে হুমকির কারণে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইলিয়াস এর আগে বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন। এ জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন দৈনিক বিজয় পত্রিকার সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সেন্টু।

একজন সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় আসক গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক ইলিয়াছ শেখকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ ওঠায় তা অন্যান্য সাংবাদিকেদের মধ্যে ভীতি বা উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।
আসক-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ৯ মাসে ২০৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতার করে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে আসক।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

নিউজটি শেয়ার করুন




themesads

© All rights reserved © 2020 crimefolder.com
কারিগরি সহযোগীতায়: Creative Zone IT