১৯ ম্যাচ অন্তর কোচ জিদানের হাতে ট্রফি!

১৯ ম্যাচ অন্তর কোচ জিদানের হাতে ট্রফি!

আগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে ওসাসুনার কাছে হেরেই রিয়াল মাদ্রিদের হাতে লা লিগা শিরোপা তুলে দিয়েছে বার্সেলোনা। তাই ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের পরের ম্যাচটির তেমন গুরুত্ব ছিল না। এটি হারলেও কিছু এসে যেতো না তাদের। কিন্তু বৃহস্পতিবার জিতেই লিগ জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ২০৯ ম্যাচে যিনি জেতালেন ১১তম ট্রফি!

লা লিগায় ৩৪তম শিরোপা, অনাকাঙ্ক্ষিত করোনাভাইরাস-পুনর্বাসনের পর ফের শুরু লিগে টানা ১০ ম্যাচ জয়। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা জানিয়েছে নিজের উচ্ছ্বাস আর লুকোতে পারেননি রিয়াল ও ফ্রান্সের সাবেক মহাতারকা। প্রায় বছর খানেক আবার রিয়ালে ফিরে এসে লা লিগার শিরোপা জয়কেই পাখির চোখ করেছিলেন। সেই লক্ষ্য পূর্ণ হওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত, উল্লসিত, ‘বলার ভাষা নেই যে কেমন অনুভূতি হচ্ছে আমার। ছেলেরা যেটা করেছে সেটা অসাধারণ এক অনুভূতি।’

কোচ হিসেবে রেকর্ড টানা তিনটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে, কিন্তু এবারের লা লিগা জয়টা জিদানের কাছে বিশেষ অনুভূতির, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়নস লিগই, কিন্তু এবারের লিগ শিরোপা আমাকে খুশি করেছে বেশি। কারণ লা লিগা সত্যিই অসাধারণ।’

এবারের লিগ জয়টা আসলেই বড় চ্যালেজ্ঞ ছিল জিদানের কাছে। কারণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো একজন গোলদাতার অভাবে ভুগেছে রিয়াল, ক্লাবে ছিল নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমাবেশ, মার্কো আসেনসিওর মতো খেলোয়াড়কে চোটের কারণে অনেকদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় অনেক কৌশলী হতে হয়েছে তাকে। খেলোয়াড়দের খেলিয়েছেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে। নেপথ্যের মানুষ, কিন্তু কৃতিত্ব তারই বেশি। নিজে অবশ্য খেলোয়াড়দেরই ভাগ করে দিচ্ছেন সব কৃতিত্ব, ‘আমরা সেরা, কারণ সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছি আমরা। আমার পেশাদার ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা দিন এটি। এটা সত্যি যে আমার হয়তো ভূমিকা আছে, কিন্তু খেলোয়াড়েরাই লড়াইটা করেছে। তাদের মধ্যে বিশ্বাসটা ছিল। এই দলটি অসাধারণ একগুচ্ছ সাহসী খেলোয়াড় নিয়ে গড়া। তাদের যখন খুশি হতে দেখি, আমারও খুব ভালো লাগে। এমনকি যারা খেলার সুযোগ কম পেয়েছে, তাদেরও ছিল দায়বদ্ধতা। একদম শেষ পর্যন্ত তারা সেটি দেখিয়ে গেছে।’

এমন একটি জয়ের উৎসব কিনা উদযাপিত হয়েছে রিয়ালের অনুশীলন ভেন্যু এস্তাদিও আলফ্রেডো ডি স্তেফানোতে। এটি মাদ্রিদের সব উৎসবের প্রাণকেন্দ্র সিবেলেসে উদযাপিত না হলে কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগে। কিন্তু করোনাভাইরাস সতর্কতার কারণে সেখানে যাওয়া গেল না। বাস্তবতা মেনেই নিতে হচ্ছে জিদানকে, ‘শুধু আমার কাছেই নয়, সবার কাছেই এটি অদ্ভুত লাগছে। সিবেলেসে ভক্তদের সঙ্গে আনন্দটা ভাগাভাগি করে নিতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু তা তো আমরা পারছি না। তবে আমি নিশ্চিত সবাই বাড়িতে থেকেই আনন্দিত।’

রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১৪টি ট্রফি জিতেছেন মিগুয়েল মুনোজ, কিন্তু সেটি ৬০৫ ম্যাচে। সেই হিসেবে এরইমধ্যে সবচেয়ে সফল কোচ জিদান, ২০৯ ম্যাচে ১১টি ট্রফি হাতে উঠে গেল তার। মার্কা হিসেব করে দেখিয়েছে, প্রতি ১৯ ম্যাচ অন্তর একটি করে ট্রফি জিতেছেন জিদান। কতদূর যে যাবেন তিনি, শুধু সময়ই তা বলতে পারে।

রিয়ালের পাঁচ সফলতম কোচ মুনোজ, লিও বিনহ্যাকার, লুইস মিলোনি, ভিসেন্ত দেল বস্কি ও জিদানের মধ্যে শুধু বিন হ্যাকারই ক্লাবের হয়ে খেলেননি। আর সবাই রিয়ালের জার্সি গায়ে লা লিগা জিতেছেন, জিতেছেন কোচ হিসেবেও।

নিউজটি শেয়ার করুন




themesads

© All rights reserved © 2020 crimefolder.com
কারিগরি সহযোগীতায়: Creative Zone IT